ভেনেজুয়েলার গুয়াতিরে শহরের এল রোদেও ১ কারাগার থেকে ১৩১ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছে, ‘শান্তি ও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান’ কর্মসূচির আওতায় বন্দিদের কারাবাস থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতীয় সমঝোতার প্রক্রিয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আবেগঘন দৃশ্য দেখা গেছে। রাজধানী কারাকাস থেকে ৫০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই কারাগারের বাইরে স্বজনরা ভিড় করেন। মানবাধিকার সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তত ১৭ জন নারী রয়েছেন। এর আগে ১০ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে ৩৯১ জন রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে ছিলেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছিল।
বন্দি মুক্তির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী নেতা হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা। তবে তিনি কেবল কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন। গুয়ানিপা দাবি জানিয়েছেন, কোনো বিলম্ব বা ব্যতিক্রম ছাড়াই যেন সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং ভেনেজুয়েলা থেকে ‘নির্যাতন কেন্দ্রের’ অস্তিত্ব চিরতরে মুছে ফেলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া আলোচনা বুধবার শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষই জুন মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিদেশ থেকে জব্দ করা অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার বিচার বিভাগ সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে সর্বশেষ আলোচনায় রাজনৈতিক বন্দিদের বিষয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও আটক হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৬ জন ভেনেজুয়েলার নাগরিক মুক্তি পেয়েছেন। বর্তমানে মাদুরোর সাবেক ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ দেশ পরিচালনা করছেন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। অনেক ভেনেজুয়েলা নাগরিক আশা করছেন, চলমান এই সমঝোতা আলোচনা শেষ পর্যন্ত দেশটিকে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে।









