বাংলাদেশের গ্রামজীবনের প্রেক্ষাপটে রচিত নূর কামরুন নাহারের ‘সালিশ’ গল্পটি মূলত গ্রামীণ সমাজের বৈবাহিক ও আর্থসামাজিক জটিলতার একটি শৈল্পিক দলিল। গল্পের প্রধান চরিত্র হুরবানু, যে তার স্বামী শরীফের অবহেলা ও নিগ্রহের শিকার। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে হুরবানুর বাবা ও ভাই আর্থিক সহায়তা করলেও, তার শারীরিক গড়ন ও গায়ের রঙের কারণে স্বামী শরীফ তাকে মেনে নিতে পারে না। এই অমানবিক পরিস্থিতি নিরসনে গ্রামে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
গল্পের পটভূমি করিম মিয়ার বাড়ি, যেখানে সালিশের আসরে গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বার, মসজিদের ইমামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হন। দীর্ঘ আলোচনার শেষে যখন চেয়ারম্যান হুরবানুর মতামত জানতে চান, তখন নির্বাক হুরবানু মাত্র একটি কথায় পুরো সালিশকে স্তব্ধ করে দেয়। তার এই সংক্ষিপ্ত ও মর্মস্পর্শী কথাটি কেবল বৈঠকে উপস্থিত মানুষদেরই নয়, পাঠকদের বোধকেও নাড়া দেয়।
লেখিকা নূর কামরুন নাহার তার গল্পে চিরায়ত গ্রামবাংলার ভাষা ও লৌকিক বচনের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন। গল্পের কাহিনী ও চরিত্রের বয়ানে লেখক একদিকে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার নিষ্ঠুরতা এবং অন্যদিকে হুরবানুর মতো একজন নারীর অসহায়ত্বের ট্র্যাজিক দিকটি তুলে ধরেছেন। সালিশ শেষ হলেও হুরবানুর কথাগুলোর রেশ এবং পরীর মতো নিষ্পাপ শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রশ্নের জন্ম দেয়।









