পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে এক ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিককে হত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ৭ আগস্ট পোলিশ নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডটি প্রতিরোধ করেছে। এটি ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশে রুশ মদদপুষ্ট কারো দ্বারা মার্কিন নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করার প্রথম স্বীকৃত ঘটনা, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
নিহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শাসনের জন্য ‘অস্বস্তিকর’ বা সমালোচক হিসেবে পরিচিত বলে জানান প্রধানমন্ত্রী টাস্ক। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানান, এই পুরো বিষয়টি নিয়ে পোল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। পোল্যান্ডের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী তোমাশ সেমোনিয়াকও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পটভূমি
বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে বলে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করেছে। এর আগেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। পোল্যান্ড এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো সাম্প্রতিক সময়ে মস্কোর কার্যকলাপের ওপর নজরদারি জোরদার করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে।
চলমান পরিস্থিতি
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে পুরো ইউরোপজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে জার্মানির একটি বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাওয়ার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীও সম্প্রতি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বা অন্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছেন। পোলিশ প্রধানমন্ত্রী এই গ্রেপ্তারকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং পোল্যান্ডের নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।










