মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত গত বছরের অক্টোবরে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। ক্ষমতার হস্তান্তরের তিন বছর পর, তার শাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কম্বোডিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য এবং কম্বোডিয়া ন্যাশনাল রেসকিউ পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট মু সোচুয়া। তিনি মনে করেন, হুন মানেত কম্বোডিয়ার সেই পুরোনো কর্তৃত্ববাদী কাঠামোকেই বজায় রেখেছেন, যা তার পিতা হুন সেন তৈরি করেছিলেন।
২০২৩ সালে হুন মানেত ক্ষমতা গ্রহণের সময় অনেক কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষক আশা করেছিলেন যে, পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত এই নেতা কম্বোডিয়ায় নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করবেন। তবে বাস্তবতা হলো, নতুন প্রধানমন্ত্রী তার পিতার তৈরি শাসন ব্যবস্থার মৌলিক জায়গাগুলোতে কোনো পরিবর্তন আনেননি। বরং তিনি দমন-পীড়নের ধরন বদলে একে আরও আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। এখন প্রকাশ্যে সহিংসতার চেয়ে আইনি নিপীড়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রিত যোগাযোগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই শাসন প্রক্রিয়ার প্রতিফলন দেখা যায় নাগরিক সমাজের ওপর সরকারের কঠোর অবস্থানে। গত জুলাই মাসে পরিবেশকর্মী গ্রুপ ‘মাদার নেচার’-এর পাঁচ কর্মীকে রাষ্ট্রদ্রোহ ও রাজপরিবারকে অবমাননার অভিযোগে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের হয়রানি এবং স্বতন্ত্র সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
চীনের সঙ্গে কম্বোডিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক এই শাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। বেইজিং থেকে পাওয়া বিনিয়োগ ও সমর্থন সরকারকে পশ্চিমা দেশগুলোর গণতন্ত্র বা মানবাধিকার বিষয়ক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করছে। এর বিপরীতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা কেবল কূটনৈতিক আলোচনার বদলে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের মানদণ্ড নিশ্চিত করার শর্তে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।










