Home / আন্তর্জাতিক / মাইনাস ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অ্যান্টার্কটিকায় দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান

মাইনাস ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অ্যান্টার্কটিকায় দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার হোবার্টে অবস্থিত বিমান সংস্থা স্কাইট্রডার্স অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো স্টেশনে এক মার্কিন অভিযাত্রীকে উদ্ধারের জন্য এক দুঃসাহসিক শীতকালীন মিশন পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির উপ-প্রধান নির্বাহী ডানকান ম্যাকে জানিয়েছেন, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে এই বিমানটি অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে রানওয়েতে অবতরণ করে। এই উদ্ধার অভিযানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শীতকালীন দ্রাঘিমা সংক্রান্ত বিষুবের এত কাছাকাছি সময়ে বেসামরিক বিমানের এ ধরনের কার্যক্রম আগে কখনো দেখা যায়নি।

উদ্ধার অভিযানের বিবরণ
গত শুক্রবার ম্যাকমার্ডো স্টেশন থেকে জরুরি চিকিৎসার অনুরোধ পাওয়ার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এয়ারবাস এ৩১৯ মডেলের বিমানটিকে মেডিকেল ইভাকুয়েশন বা রোগী পরিবহনের উপযোগী করে তোলা হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযানের শুরুতে ১২ ঘণ্টার বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত বিমানটি তাসমানিয়ার হোবার্ট থেকে রওনা দিয়ে রস আইল্যান্ডে অবতরণ করে। সেখানে মাইনাস ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ঘুটঘুটে অন্ধকারে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রোগীকে বিমানে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিমানটি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছে রোগীকে চিকিৎসার জন্য হস্তান্তর করে। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে।

অভিজ্ঞতার প্রয়োগ
অভিযাত্রী বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন আল ওয়ালাচ জানান, এই মিশনটি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং এটি বিশেষায়িত বিমানের সক্ষমতার শেষ সীমানায় পৌঁছে গিয়েছিল। স্কাইট্রডার্সের ডেপুটি সিইও ডানকান ম্যাকে বলেন, এই ধরনের মিশনে আবহাওয়াবিদ, রানওয়ে টিম এবং চিকিৎসকদের নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এর আগে ২০২০ সালের মার্চ মাসেও একই স্টেশন থেকে এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছিল সংস্থাটি, তবে সে সময় তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবার শীতের তীব্রতা ও অন্ধকার থাকায় অভিযানের ঝুঁকি ছিল বহুগুণ বেশি।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *