লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে হামলার ঘটনা ঘটলে পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিঙ্কেভিচিয়াস। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, আক্রান্ত হলে তার দেশ আত্মসমর্পণ করবে না, বরং প্রতিটি পদক্ষেপে লড়াই করবে।
লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশসহ বিভিন্ন ঘটনার কারণে সেখানকার নাগরিকরা নিয়মিত হুমকির মুখে রয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন কৌশলী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রবীণ নাগরিকদের শহর থেকে দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে যাতে জনদুর্ভোগ বা যানজট এড়িয়ে দ্রুত স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
ন্যাটো সদস্যভুক্ত লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার এক্সক্লেভ কালিনিনগ্রাদের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নেয়। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্কেভিচিয়াস জানান, তারা বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট হুমকির মোকাবিলা করছেন। প্রকাশ্যে সব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা না হলেও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত। এই অঞ্চলে নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোকে তাদের মানসিকতায় পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
সম্প্রতি লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন প্রবেশের ঘটনায় ন্যাটোর যুদ্ধবিমান সেটি ধ্বংস করে দেয়। এছাড়া বেলারুশের সাথে সংশ্লিষ্ট ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’-এর অংশ হিসেবে লিথুয়ানিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যাটো তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করছে। এরই ধারাবাহিকতায় জার্মানি ২০২৭ সালের মধ্যে লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৫ হাজার সৈন্যের একটি ব্রিগেড স্থায়ীভাবে মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে লিথুয়ানিয়া তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো সদস্যের ওপর হামলা পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে তারা মনে করে।










