আফ্রিকার জাম্বিয়ায় তিন ভাই বন্য কুকুর সঙ্গী খুঁজতে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার (২,৫০০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়ে একটি বিরল রেকর্ড গড়েছে। মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্কট ক্রিলসহ গবেষক দলের প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকান স্থলজ প্রাণীর সঙ্গী খোঁজার ইতিহাসে এটিই দীর্ঘতম অতিক্রান্ত দূরত্ব। বন্যপ্রাণীদের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রতিকূল পরিবেশ ও মানববসতি এড়িয়ে বিশাল এলাকা পাড়ি দিতে সক্ষম, যা ভবিষ্যতে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে।
এই তিন বন্য কুকুর জাম্বিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার পথে অনেক বড় বড় শহর ও শিল্প এলাকা এড়িয়ে গেছে। গবেষকদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, তারা আট মাসে সরাসরি ২৬০ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার কথা থাকলেও, আঁকাবাঁকা পথে ঘুরে মোট ৪ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। একে প্রাণিবিজ্ঞানের ভাষায় ডিসপার্সাল বা স্থানচ্যুতি বলা হয়, যা মূলত সঙ্গী খোঁজার উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে।
এই যাত্রার গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি প্রমাণ করে যে, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বন্য কুকুরের দলগুলো এখনো একে অপরের সঙ্গে কানেক্টেড বা সংযুক্ত থাকতে পারে। তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বন্য কুকুরদের এই যাত্রাপথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, জিপিএস কলার পরা অনেক কুকুরই অবৈধ ফাঁদে পড়ে মারা গেছে। বিশেষ করে নারী বন্য কুকুরদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি ছিল। তিন বোনের একটি দলও এমন দীর্ঘ যাত্রায় বেরিয়েছিল, কিন্তু তাদের একজন অবৈধ ফাঁদে আটকা পড়ে মারা যাওয়ায় যাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
বর্তমানে আফ্রিকায় মাত্র ৬ হাজার বন্য কুকুর অবশিষ্ট রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোকে কেবল দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন করে রাখলে হবে না, বরং বন্যপ্রাণীদের চলাচলের জন্য বনাঞ্চলের মধ্যে করিডোর বা প্রাকৃতিক সংযোগ পথ তৈরি করতে হবে। বন্য কুকুর বা হাতির মতো যেসব প্রাণী বিশাল এলাকা জুড়ে বিচরণ করে, তাদের টিকে থাকার জন্য এই আন্তঃসংযোগ খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাফু কনজারভেশনের পরিচালক ব্রুস এলেন্ডার।










