আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তাকে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কিছু ‘নেতিবাচক শক্তি’ অপ্রয়োজনীয় ভীতি ছড়াচ্ছে যা বাস্তবে ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। চীনের সাথে বৈশ্বিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, যারাই এআই প্রযুক্তিতে জয়ী হবে, তারাই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। তাই এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখাই তার মূল লক্ষ্য।
সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক এআইয়ের একজন সাবেক গবেষকসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা দ্রুতগতির এআই উন্নয়নে বড় ধরনের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। অনেকে এমনও মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান গতিতে এআইয়ের উন্নয়ন চলতে থাকলে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকিতে পড়তে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইলন মাস্ক এবং স্যাম অল্টম্যানের মতো শিল্প উদ্যোক্তারা এআই উন্নয়ন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে ধীর করার আহ্বান জানান।
তবে এই সতর্কবার্তার বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে মার্কিন প্রযুক্তির আধিপত্য ধরে রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের বিপরীতে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হাউস রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন তাড়াহুড়ো করে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক আইন করার বিপক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, এতে মার্কিন উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং চীন সুবিধা নিতে পারে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফরিজ জনগণের সুরক্ষায় এআই নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। এরই মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে ‘ফ্রন্টিয়ার অ্যাক্ট’ নামক একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যার উদ্দেশ্য হলো এআইয়ের জন্য জাতীয় নিরাপত্তা ও তদারকির কাঠামো তৈরি করা। এর আগে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই মডেলের নিরাপত্তার খাতিরে কাজ ধীর করার কথা স্বীকার করলেও, চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।










