মিশরের কায়রোতে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারা খলিফাসহ ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র আল-আহরামের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তরা একটি অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে নিষিদ্ধ মাদক তৈরির কাঁচামাল আমদানি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সারা খলিফা তার অপরাধ বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’-এর জন্য পরিচিত। তিনি বরাবরই নিজের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
মামলার রায় ও আইনি প্রক্রিয়া
গত মাসে প্রথমবার এই রায় ঘোষণা করা হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির কাছে পাঠানো হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে দেশটির আইন অনুযায়ী ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। গ্র্যান্ড মুফতির অনুমোদনের পরই আদালত এই রায় নিশ্চিত করেছেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ
শুনানি চলাকালীন আদালতকে জানানো হয় যে, কর্তৃপক্ষ প্রায় ৭৫০ কেজি মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করেছে। সরকারি কৌঁসুলিদের কাছে ২০ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপ ও ডিজিটাল কথোপকথন আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে আদালতে সারা খলিফা দাবি করেছিলেন যে, মাদকদ্রব্যের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং মাদকবিরোধী দপ্তরে ছবি তোলার সময় তিনি প্রথমবারের মতো সেসব দেখেছিলেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে বছর মিশরে ৪৯২টি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল যার মধ্যে ২৩ জনের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, মাদক চোরাচালান ও ধর্ষণের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এসব অপরাধ সরাসরি ‘ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড’র পর্যায়ে পড়ে না।









