যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার সংসদীয় আসন হলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাস থেকে পদত্যাগ করার পর এই আসনে উপ-নির্বাচন আসন্ন। ১৯৮৩ সালে আসনটি সৃষ্টির পর থেকে এখানে বরাবরই লেবার পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আসছেন। তবে এবার এই আসনে গ্রিন পার্টির নেতা ও স্বঘোষিত ইকো-পপুলিস্ট জ্যাক পোলানস্কি মনোনয়ন পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা ব্রিটিশ রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।
পোলানস্কির এই উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও লেবার পার্টি এখানে দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে, তবে সাম্প্রতিক কাউন্সিল নির্বাচনে গ্রিন পার্টির উত্থান এবং স্টারমারের বিদায়ের পর পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পোলানস্কি এই এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাসের বিষয়টি সামনে এনে ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোনাথন টংয়ের মতে, লেবার পার্টির এই শক্তিশালী ঘাঁটিতে গ্রিন পার্টির জয় পাওয়াটা চমকপ্রদ ঘটনা হবে। তিনি মনে করেন, যদি নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায় বা বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা আসে, তবেই পোলানস্কির জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বার্নহাম জনগণের মধ্যে বেশ ইতিবাচক ভাবমূর্তি নিয়ে সরকার পরিচালনা করছেন।
তবে পোলানস্কির রাজনৈতিক অতীত এবং কিছু বিতর্ক তার প্রচারণায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। বিশেষ করে তার আগের রাজনৈতিক দল পরিবর্তন এবং স্থানীয় কর সংক্রান্ত সমস্যাগুলো বিরোধীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে পোলানস্কির জনপ্রিয়তার হারও কিছুটা নিম্নমুখী বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
গ্রিন পার্টি গত এক বছরে দেশজুড়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে এবং কাউন্সিল নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা বেড়েছে। তবে হলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাসের মতো আসনে লেবার পার্টির দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তি ভাঙা তাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে। এখন দেখার বিষয়, লেবার পার্টির এই দুর্গে গ্রিন পার্টির প্রার্থী কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।










