জার্মানির স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যের লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে গত মাসে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে জার্মানি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিমানবন্দরে পাওয়া ড্রোনটির প্রযুক্তি এবং গঠনশৈলী রাশিয়ার ব্যবহৃত প্রযুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই ঘটনাকে ন্যাটো জোটের সদস্যদের ভয় দেখানোর রাশিয়ার একটি কৌশলগত অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৪ আগস্ট বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে ইউক্রেনীয় কোম্পানি আন্তোনভ এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো বিমানের পাশে বিস্ফোরকবাহী ড্রোনটি পাওয়া যায়। এক কর্মীর সতর্কতায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কার্যক্রম স্থগিত করে এবং বিশেষজ্ঞ দল রোবটের সাহায্যে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করে। এর পাশাপাশি একটি ড্রোন বিমানবন্দরের কাছে একটি বিমানের সাথে সংঘর্ষের পর বিধ্বস্ত হয়।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় জার্মানি বেশ কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বন শহরে অবস্থিত রাশিয়ার কনসুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া বার্লিনে অবস্থিত রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘রাশিয়ান হাউস’ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রুশ নাগরিকের নাম যুক্ত করার এবং রুশ নাগরিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার সুপারিশ করেছে জার্মান সরকার।
জার্মানির এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। রুশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযোগের পরিণাম ভালো হবে না। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উল্টো অভিযোগ করে বলেছেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা ও জনপ্রিয়তা হারানোর বিষয়টি ঢাকতে জার্মান সরকার এ ধরনের ষড়যন্ত্র করছে।
ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্ররা জার্মানির এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, জার্মানি তাদের অন্যতম কৌশলগত মিত্র। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে ইউরোপে রাশিয়ার এমন নাশকতা ও হাইব্রিড যুদ্ধের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্বাচনগুলোর আগে এ ধরনের ঘটনা জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।










