বাংলাদেশের ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন আইনজীবী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ইব্রাহিম খলিল, জাফর আহমেদ ও আনিসুজ্জামান রায়হান। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনের সামনে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবী জাফর আহমেদের মধ্যকার বাকবিতণ্ডা থেকে। পরবর্তীতে ব্যাডমিন্টন খেলার মাঠের পাশে ইব্রাহিম খলিলকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের চেম্বারেও হামলা চালানো হয়।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সন্ধ্যার পর সেখানে পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে বিরোধ
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কি হয়।
গত ৩০ জুলাই সরকার আগের সব আইন কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে ২৬৫ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। এরপর থেকেই বাদ পড়া এবং নিয়োগবঞ্চিত আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রের কর্মকর্তা হয়েও আইন কর্মকর্তারা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন কি না। সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীরা এমন পরিস্থিতিতে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।









