ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরে মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনীর হামলায় শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের ওপর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের (আইআরজিসি) সাম্প্রতিক হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আক্রমণের নির্দেশ দেয়।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় আইআরজিসির লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা শুরু হয়। সিরিক ছাড়াও চাবাহার, কোনারাক এবং জিরোফতের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কেশম দ্বীপ ও বন্দর আব্বাসেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, সিরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা জর্ডানের আকাবায় অবস্থিত মার্কিন মেরিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে জর্ডান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের এই হামলায় কোনো প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। দেশটির নিরাপত্তা বিভাগ আকাবা ও মাফরাক প্রদেশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই হামলা ছিল জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়া। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে, তবে আরও বড় ধরনের ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত জুন মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে এই উত্তজনা ছড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের পর উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, আগস্টে ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পরিস্থিতি আবার সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের চুক্তির শর্ত মেনে ফিরে আসে, তবে ইরানও ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত।










