বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীরের এলাকাগুলো ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে এবং তা অপরিবর্তনীয় ক্ষতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে গ্লোবাল কোরাল রিফ মনিটরিং নেটওয়ার্ক (GCRMN)। সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রবাল প্রাচীরগুলো এখন এতটাই ঘনঘন ব্লিচিংয়ের শিকার হচ্ছে যে, পরবর্তী আঘাত আসার আগে সেগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সময় পাচ্ছে না।
গবেষণার প্রধান লেখক ম্যানুয়েল গঞ্জালেজ রিভেরা জানিয়েছেন, প্রবালগুলো সুস্থ হওয়ার সুযোগ পেলে তা পুনর্গঠনের ক্ষমতা রাখে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্লিচিংয়ের ঘটনা আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। যখন প্রবাল থেকে রঙিন শৈবাল সরে যায়, তখন সেগুলো ক্ষুধার্ত ও রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত গত ৪০ বছর প্রবাল প্রাচীরগুলো তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে এই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। ২০২৩ সালে রেকর্ড পরিমাণ ৭৭ শতাংশ প্রবাল প্রাচীর ব্লিচিংয়ের শিকার হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এই বছর আবারও একই ধরনের বড় ঘটনার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রবাল প্রাচীর সমুদ্রের মোট এলাকার ১ শতাংশেরও কম জায়গা দখল করে থাকলেও এটি সামুদ্রিক প্রাণিজগতের প্রায় ২৫ শতাংশের আবাসস্থল। তাই বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে প্রবাল প্রাচীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিকে এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে প্যাসিফিক আইল্যান্ডস ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ১৮টি দেশের জোটের কমপক্ষে পাঁচজন শীর্ষ নেতা এবারের সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। দীর্ঘকাল ধরে এই ফোরামটি জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রের স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।










