নেপাল ও চীনের সীমান্ত পয়েন্ট রাসওয়াগাধি এবং গিউরংয়ে গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় সীমান্ত এলাকাটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। হিমালয়ের দুর্গম এই উপত্যকায় হঠাৎ করে নেমে আসা কাদা, পাথর, বরফ ও পানির প্রবল স্রোতে চোখের পলকেই বহু ঘরবাড়ি ও সীমান্ত স্থাপনা বিলীন হয়ে যায়। নেপালের অভিবাসন দপ্তরের টিকে রাম পোখরেল জানিয়েছেন, বন্যার সময় সীমান্ত এলাকাটি অত্যন্ত জনবহুল ছিল।
ঘটনার দিন সকালে রাসওয়াগাধি সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৮৯ জন নেপালি ও বিদেশি নাগরিক বৈধভাবে চীনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন। এর অল্প কয়েক মিনিট পরই সিসিটিভি ফুটেজে উপত্যকায় পানির তীব্র স্রোত ও ধ্বংসলীলা দেখা যায়। সিসমিক যন্ত্রের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে পার্বত্য এলাকায় ভূ-কম্পন অনুভূত হয়, যা হিমবাহ ধসের ইঙ্গিত দেয়। এর সাত মিনিটের মধ্যেই বন্যা সীমান্ত পয়েন্টে আঘাত হানে।
এই বিপর্যয়ে সীমান্ত এলাকার বহু হোটেল, দোকান এবং চারটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যালয় ভেসে গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নেপালে বর্তমানে অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি ঘটনার সময় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন তীর্থযাত্রীও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
সীমান্তের পরিস্থিতি ও গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক কারণে এই এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গিউরং সীমান্তটি নেপাল ও চীনের মধ্যে অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক পথ। প্রতি বছর এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এছাড়া মাউন্ট কৈলাসে যাওয়া তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
বর্তমানে এই রুটে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নেপালের বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া ওয়াচ অন ট্রেড, ইকোনমিকস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের পশ রাজ পান্ডের মতে, নেপালের উচিত বিকল্প বাণিজ্যিক পথ তৈরি করা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে কৌশলগত পুনর্বিবেচনা করা।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা এখনো তাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুর্গম এই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। গত বছরের জুলাইয়েও একই এলাকায় ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছিল, যা থেকে শিক্ষা নিয়ে কর্মীরা সতর্ক থাকলেও এবারের আকস্মিক দুর্যোগের ভয়াবহতা ছিল ধারণার বাইরে।










