Home / আন্তর্জাতিক / সোমালিয়ায় জলদস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধি, নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত

সোমালিয়ায় জলদস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধি, নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত

সোমালিয়ার উপকূলে গত কয়েক দিনে জলদস্যুদের তৎপরতা ও জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের সোমালিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ওমর মাহমুদ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের জেরে আঞ্চলিক জলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে দস্যুরা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জলদস্যুতার এই বিস্তারের পেছনে মূল কারণ হিসেবে হরমুজ প্রণালী ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর অস্থিরতাকে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর অপারেশন কমান্ডার ভাইস-অ্যাডমিরাল ইগনাসিও ভিলানুয়েভা সেরানো মনে করেন, লোহিত সাগরের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাহিনীগুলো ব্যস্ত থাকায় দস্যুরা উপকূলীয় অঞ্চলে অবাধে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।

সর্বশেষ ১৭ আগস্ট সোমালিয়ার পান্টল্যান্ড উপকূল থেকে ক্যামেরুনের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি লুতুফ ছিনতাই করা হয়। এর কয়েক দিন পর ইয়েমেনের অদূরে এমটি সিবু ১ নামের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারও দস্যুদের কবলে পড়ে। এমভি লুতুফ ছিনতাইয়ের পর অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি তুরস্কের সামরিক সরঞ্জামে বোঝাই ছিল এবং এসব হামলার নেপথ্যে তুরস্ক জড়িত থাকতে পারে।

পান্ডল্যান্ডের নিরাপত্তা উপমন্ত্রী আবদুর রহমান ইউসুফ জানান, ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন, যা জলদস্যু দমনের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছয়টি আন্তর্জাতিক যুদ্ধজাহাজ লুতুফকে ঘিরে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে সোমালি উপকূলে বিদেশি ট্রলারের অবৈধ মাছ শিকারের ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ক্ষোভ এবং অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের রুট পরিবর্তন—সব মিলিয়ে দস্যুদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর না করা গেলে এই হুমকি আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *