নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৬২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় এই দুর্যোগে শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগের কবলে পড়া ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি জানান, তাদের ঘরের ভেতর কাদার স্রোত ঢুকে পড়লে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চোখের সামনেই কাদার তোড়ে স্ত্রী ভেসে যান। শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হলেও তার স্ত্রী এখনো নিখোঁজ।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৫৭৯ জন পর্যটকের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ ও কানাডার ২৪ জন রয়েছেন। এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের গিয়েরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
ভূমিধসের ফলে লহেন্দে নদীতে প্রচুর ধ্বংসাবশেষ জমে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। রাসুওয়ার স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিক জানান, নদীর তীরবর্তী বসতিগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সামনে ভিড় করছেন। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার কাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। আকাশপথে তল্লাশির পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।









