Home / আন্তর্জাতিক / গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যামের পর নতুন বাঁধ নিয়ে ইথিওপিয়ার পরিকল্পনা: শঙ্কায় মিশর

গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যামের পর নতুন বাঁধ নিয়ে ইথিওপিয়ার পরিকল্পনা: শঙ্কায় মিশর

ইথিওপিয়ার গুবা অঞ্চলে ব্লু নদের ওপর গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম বা জিইআরডি (GERD) নির্মাণের পর এবার নীল নদে আরও তিনটি নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ইথিওপিয়া। ইথিওপিয়ার পানি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এই পরিকল্পনা মিশরের জন্য একটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। কায়রো এখন আর প্রকল্পগুলো থামানোর চেষ্টা না করে বরং কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার মাধ্যমে ইথিওপিয়ার পানি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের কৌশল গ্রহণ করেছে।

নতুন এই তিনটি প্রকল্প হলো কারাদোবি, মানদায়া এবং বেকো আবো। ২০২৪ সালের নীল নদ অববাহিকা বিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকল্পগুলোর অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। মার্চ মাসে ইথিওপিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই তিনটি প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫,৭০০ মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এগুলোর নকশা ও অবকাঠামোগত চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ইথিওপিয়ার কাছে এই প্রকল্পগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে এখনো বিশাল জনগোষ্ঠী নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পগুলোর প্রভাব নির্ভর করবে বাঁধগুলোর আকার এবং সেগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে তার ওপর। যদি বাঁধগুলো কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে তা নিচের দেশের পানির প্রবাহে তেমন প্রভাব নাও ফেলতে পারে। কিন্তু সেচ কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে মিশরের মতো ভাটির দেশের জন্য তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মিশরের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো নীল নদের পানির প্রবাহ। কায়রো মনে করে, কোনো ধরনের বাঁধ বা জলাধার নির্মাণের সময় দীর্ঘমেয়াদী খরাকালীন ব্যবস্থাপনা ও পানির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করে মিশর দাবি জানায়, ইথিওপিয়া আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করছে। তবে জিইআরডি নির্মাণের অভিজ্ঞতা থেকে মিশর বুঝতে পেরেছে যে, কেবল কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইথিওপিয়াকে প্রকল্প থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়।

সুদান এই জলবন্টন বিরোধের কেন্দ্রে থাকলেও তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সংকট এবং অগ্রাধিকার রয়েছে। সুদানের প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞ মেক্কি এলমোগ্রাসির মতে, ইথিওপিয়া, মিশর ও সুদানের মধ্যে সহযোগিতার প্রথম শর্ত হলো তথ্য বিনিময় ও স্বচ্ছতা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মিশর ও সুদানের সাথে মিলে ইথিওপিয়া একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কায়রো এখন আর এককভাবে বাঁধ নির্মাণ ঠেকানোর চেষ্টা না করে বরং বাঁধ পরিচালনার নিয়ম ও তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *