আফগানিস্তানের কাবুলে তালেবান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পেলেও নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি আল জাজিরাকে জানান, বর্তমানে কাবুলে ডজনখানেক বিদেশি মিশন ও সংস্থা কাজ করছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তালেবান সরকারের ৪০টিরও বেশি কূটনৈতিক মিশন সক্রিয় রয়েছে। স্বীকৃতির অভাব সত্ত্বেও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে কাবুলের এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
চীন বর্তমানে তালেবানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বেইজিংয়ে নিযুক্ত তালেবানের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের পাশাপাশি লোগার কপার খনি প্রকল্পের মতো বড় বিনিয়োগে চীন ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেছে। এছাড়া রাশিয়া জুলাই ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলেও অধিকাংশ দেশ এখনো সেই পথে হাঁটেনি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তালেবানের সম্পর্কের সমীকরণ বেশ জটিল। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় কাবুল বর্তমানে ইরান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর ওপর বাণিজ্যের জন্য বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। উজবেকিস্তানের সঙ্গে ৫২০ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তি এবং তুর্কমেনিস্তানের সাথে তাপি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প তাদের এই নতুন কৌশলের অংশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আইএসআইএল (আইএসআইএস) দমন এবং সীমান্ত সুরক্ষায় তালেবানের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখছে রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো। এ কারণে তারা নিরাপত্তার স্বার্থে তালেবানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া ইরান চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে এবং ভারত তাদের নিজস্ব কৌশলগত প্রয়োজনে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তালেবানের যোগাযোগ মূলত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, অভিবাসন এবং মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে নারী অধিকার ও সুশাসনের মতো বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে তালেবানের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রেখেছে।










