ইসরায়েলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত অধিকৃত এলাকা ই১-এ প্রায় ১,২০০টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এই পদক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য এবং ধ্বংসাত্মক আখ্যা দিয়েছেন। পশ্চিম তীরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক মহলের বিরোধিতার মুখে পড়েছে, কারণ এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং পূর্ব জেরুজালেম অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে আশা, তা মুছে ফেলার লক্ষ্যেই বর্তমান ইসরায়েলি সরকার এই বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ১৯ অক্টোবর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি সাধারণ নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে নতুন সরকারের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা কঠিন করে তোলার চেষ্টা করছে বর্তমান প্রশাসন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে পররাষ্ট্র দপ্তরে তলব করে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার এই বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ বসতি স্থাপনে জড়িতদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইসরায়েলি সংস্থা ‘পিস নাও’ জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক ও কৌশলগত চরিত্র স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই নতুন দরপত্র আহ্বানের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে এবং সেখানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসতি স্থাপন করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।










