বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে আটকে রেখে হেনস্তা, মোবাইল কেড়ে নেওয়া ও জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্য আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রক্টরের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়েছে, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইব্রাহিম ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার বন্ধু আবির হাসান জানান, ফেসবুকে প্রভোস্টের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার জেরে ইব্রাহিমকে হল কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে তাকে কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে হেনস্তা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ইব্রাহিম কক্ষ থেকে বের হতে চাইলে প্রভোস্ট দরজায় দাঁড়িয়ে বাধা দেন এবং হলের স্টাফদের ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ফোনটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়।
জোরপূর্বক বক্তব্য আদায়
আবির হাসানের দাবি, প্রভোস্টের পছন্দমতো বক্তব্য না লেখায় ইব্রাহিমকে পুনরায় লিখতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভোস্টের প্রশংসা করে পোস্ট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যথায় হলের সিট বাতিল ও সাইবার আইনে মামলার হুমকি দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ১৭ মিনিট আটকে রাখার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় ইব্রাহিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু।
প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
ফুটেজ দেখার পর হলের ভিপি আবু নাঈম নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রভোস্টকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন। তবে তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব আল আমিন শিকদার নিরপেক্ষতার প্রশ্নে বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের জানিয়েছেন, ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পুরো ফুটেজটি প্রকাশের দাবি তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট ইব্রাহিমকে নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসরাফিল প্রাং। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।









