ইসরায়েলের জেরুজালেমে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার। গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হামাসের নতুন নেতা খলিল আল-হায়্যার সাথে বিরল বৈঠকের পর সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এই শান্তি পরিকল্পনাটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত মাসে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে এক ঐকমত্যে পৌঁছানোর দাবি করে। এই ১৫ দফার পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসনের অধীনে গাজা পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। নেতানিয়াহুর দাবি, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েল কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।
মিসরে আয়োজিত কুশনারের সাথে হামাসের এই বৈঠকে জাতিসংঘ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মিসর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর এবং হামাসের শাসন ক্ষমতার অবসান ঘটানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের চাপের মুখে রয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভির প্রকাশ্যেই এই শান্তি পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন।
অন্যদিকে, আটটি মুসলিম দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের নিন্দা জানিয়েছে। যদিও গত ১০ অক্টোবর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রায় নিয়মিত হামলায় গাজায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ খান ইউনিস ও নুসেইরাতে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।










