Home / আন্তর্জাতিক / অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অ্যাক্টিভিস্টদের

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা অ্যাক্টিভিস্টদের

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের কুসরায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা দিনের পর দিন অবরুদ্ধ থাকা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর কাছে খাদ্য ও পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন একদল অ্যাক্টিভিস্ট। রবিবার থেকে অবরুদ্ধ ওই পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

অ্যাক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন, কুসরার একটি বাড়ির কাছে তারা খাদ্য ও পানির সরবরাহ রেখে এসেছেন। তবে স্থানীয় দুই বাসিন্দা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি তাদের হাতে এই ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে। এ কারণে সহায়তা সামগ্রীগুলো বাইরে রেখে যেতে হয়েছে। যদিও ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আইডিএফের ভাষ্যমতে, কুসরা এলাকাটি একটি ‘বদ্ধ সামরিক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তারা দাবি করেছে যে, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।

ঘটনার পটভূমি

গত রবিবার থেকে বসতি স্থাপনকারীরা ওই ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর বাড়ির প্রবেশপথ আটকে দেয় এবং বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর থেকে দুই পরিবারের সদস্যরা সেখানে আটকা পড়ে আছেন। ঘটনার শুরুতে সেখানে উপস্থিত ইসরায়েলি সৈন্যদের সাথে বসতি স্থাপনকারীদের প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার একটি ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় সেনাবাহিনী তাদের শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে।

এলাকায় উত্তেজনা

বৃহস্পতিবার বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় আবু রিদি ও হাসান পরিবারের সদস্যসহ প্রায় এক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কুসরার মেয়র আব্দুল আজিম ওয়াদি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েলি বাহিনী বাড়িগুলো খালি করিয়ে সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্যই তারা কাজ করছে এবং ফিলিস্তিনিদের বাড়িতেই থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবারের পরিস্থিতি

বৃহস্পতিবার অভিযান চললেও শুক্রবার ফের কিছু বসতি স্থাপনকারী ঘটনাস্থলের কাছে তাঁবু স্থাপন করেন। যদিও পরে ইসরায়েলি বাহিনী তা সরিয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরের ১২৭টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। কেবল ২০২৬ সালেই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, উচ্ছেদ ও বাড়ি ভাঙার কারণে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *