যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তনের ফলে নাগরিক অধিকার রক্ষার কেন্দ্রীয় তদারকি ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আইনগুলো প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের যে অপরিহার্য ভূমিকা ছিল, তা বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের এই নিষ্ক্রিয়তা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, আইনি নথিপত্র এবং মানবাধিকার আইনজীবীদের সাক্ষাৎকার ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংখ্যালঘু, ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিসহ বিভিন্ন প্রান্তিক গোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগ ও অন্যান্য সংস্থার অবস্থা
বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিষয়ক শাখা থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে প্রায় ৭৫ শতাংশ আইনজীবী সরে গেছেন। লুইভিল ও মিনেসোটার মতো শহরগুলোতে পুলিশের সংস্কার সংক্রান্ত চুক্তিগুলোও বাতিল করা হয়েছে। দেশব্যাপী অন্তত ৭০টি বৈষম্যবিরোধী মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে অথবা কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
শিক্ষা ও আবাসন খাতের পরিস্থিতি
শিক্ষা বিভাগেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা। বৈষম্যবিরোধী অভিযোগ হ্যান্ডল করা এই বিভাগটি একদিনে তাদের অর্ধেক কর্মীকে ছাঁটাই করেছে এবং ১২টি ফিল্ড অফিসের মধ্যে সাতটিই বন্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিন শিক্ষার্থীদের বৈষম্য সংক্রান্ত কোনো অভিযোগই আর সুরাহা করা হয়নি। একইভাবে, আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের কর্মীদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বর্ণবাদী বৈষম্য সংক্রান্ত অন্তত ১১৫টি অভিযোগ কোনো তদন্ত ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ট্রে ওয়াক জানান, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই প্রশাসন বৈষম্যবিরোধী কার্যক্রমগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। সব আমেরিকানকে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি করলেও কার্যত দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত আইনি সুরক্ষার কাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।










