যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের জীবনযাত্রার মান এবং জাহাজের পরিবেশ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এই বিষয়ে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে পাঠানো চিঠিতে জাহাজের দৈন্যদশা তুলে ধরেছেন। এতে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও সেনাসদস্যের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাব, পানি দূষণ, পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ডাক ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেনেটর বলেন, এসব প্রতিবেদন তাৎক্ষণিক মনোযোগ দাবি করে এবং একইসঙ্গে এটি নৌবাহিনীর বর্তমান অপারেশনাল সক্ষমতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজে থাকা একাধিক নাবিক আত্মহত্যার কথা ভেবেছেন বা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত মাসে একজন নাবিক জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে যাওয়ার পর তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছেন, জাহাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার কোনো প্রমাণ নেই।
নৌবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও তারা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় কাজ করা নাবিকদের প্রতি সরকার কৃতজ্ঞ।
নভেম্বরে সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করা এই যুদ্ধজাহাজটি মূলত মে মাস পর্যন্ত মোতায়েন থাকার কথা ছিল, কিন্তু বারবার তা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে ওই অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।










