সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ায় জনপ্রিয় আমেরিকান গ্রোসারি চেইন ট্রেডার জো’স-এর ‘এভরিথিং বাট দ্য ব্যাগেল’ সিজনিং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পণ্যটিতে পপি বীজ থাকায় সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরো ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কারণ পপি বীজের মাধ্যমে মরফিন ও কোডিনের মতো ওপিয়াইড শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
পপি বীজ নিয়ে উদ্বেগ
প্রাকৃতিকভাবে পপি বীজে ওপিয়াইড থাকে না। তবে ফসল তোলার সময় পপি গাছের নির্যাস থেকে এটি দূষিত হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষায় ওই সিজনিংয়ে মরফিন ও কোডিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই উপাদানগুলো আফিম জাতীয় উদ্ভিদের রস থেকে উৎপন্ন হয়।
সিঙ্গাপুরের অবস্থান
সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরো বুধবার জানিয়েছে, দেশটিতে অনলাইনে থাকা সিজনিংটির ২০টিরও বেশি বিক্রয় তালিকা মুছে ফেলা হয়েছে। ব্যুরোর ভাষ্যমতে, সিঙ্গাপুর মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। সামান্যতম মাত্রায়ও নিয়ন্ত্রিত মাদকের উপস্থিতি থাকলে তা মিসইউজ অব ড্রাগস অ্যাক্টের অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের কাছে থাকা সিজনিংয়ের বোতলগুলো দ্রুত ফেলে দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি
দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছু মানুষ বিদেশ ভ্রমণের সময় স্যুভেনির হিসেবে এই সিজনিং নিয়ে আসেন এবং পরে অনলাইনে তা বিক্রির চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা বা বিক্রেতা না জেনেই এই পণ্য আনেন, আবার কেউ জেনেবুঝেই এটি করেছেন। দেশটির পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা, বিদেশে বৈধ পণ্য হলেও কোরিয়ায় তা নিষিদ্ধ মাদকের তালিকায় থাকতে পারে। তাই বিদেশ থেকে পণ্য আনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পণ্যের উপাদান
২০১৭ সালে বাজারে আসার পর থেকে এই সিজনিং বেশ জনপ্রিয় হয়। পপি বীজ ছাড়াও এতে তিলের বীজ, সামুদ্রিক লবণ, রসুন ও পেঁয়াজের গুঁড়া ব্যবহৃত হয়েছে। তবে পপি বীজের উপস্থিতির কারণেই পণ্যটি এখন এই দুই দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।










