কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওকনাগান এলাকার পিচল্যান্ড ও সামারল্যান্ড শহরে ভয়াবহ দাবানলে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন অন্তত ১২ হাজার বাসিন্দা। শুক্রবার শুরু হওয়া ‘বাল্ড রেঞ্জ’ নামের এই দাবানল মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৫৩ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড ইবি এই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এই দুর্যোগে পালাতে গিয়ে এক ৮০ বছর বয়সী নারী মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রস্তুত হওয়ার সময় পাওয়া যায়নি। পিচল্যান্ডের বাসিন্দা আর্ল কুর্জ জানান, গত ৩০ বছর ধরে তিনি এখানে বসবাস করলেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। তিনি জানান, চারপাশ এখন কেবল ১২ ইঞ্চি ছাই আর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সামারল্যান্ডের ১৮ বছর বয়সী কিগান রাদোমস্কি জানান, আগুনের ভয়াবহতায় তারা সবকিছু ফেলে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের পৈতৃক ভিটা অবশিষ্ট আছে কিনা তা নিয়ে তিনি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন।
সামারল্যান্ডের মেয়র ডগ হোমস জানান, অগ্নিকাণ্ডে অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বাসিন্দাদের যেকোনো ধরনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। দাবানল নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
প্রাকৃতিক কারণেই কানাডার বনাঞ্চলে দাবানল হয়ে থাকে, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের মাত্রা ও তীব্রতা অনেক বেড়েছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওকনাগান অঞ্চলটি গত কয়েক বছর ধরে তীব্র খরায় ভুগছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে শতাধিক দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে ৭০টি গত এক সপ্তাহেই শুরু হয়েছে। এর আগে ব্র্যাডলি ক্রিক দাবানলে দুই শতাধিক বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।










