Home / আন্তর্জাতিক / বার্থ ট্যুরিজম ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

বার্থ ট্যুরিজম ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বার্থ ট্যুরিজম বা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রবণতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন দুটি নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে তিনি কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করেছেন। জুন মাসে সুপ্রিম কোর্ট তার পূর্বের একটি প্রচেষ্টা খারিজ করে দেওয়ার পর, ট্রাম্প প্রশাসন নাগরিকত্বের শর্ত কঠোর করার ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন উদ্যোগ।

নতুন আদেশের প্রভাব

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। প্রথম আদেশটির মাধ্যমে ওইসব অ-নাগরিক পিতা-মাতার সন্তানদের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, যারা নির্দিষ্ট কিছু শর্তের আওতায় পড়েন। এর মধ্যে রয়েছে কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, বিদেশি সরকারি কর্মচারী, প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টাকারী বা এমন অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যক্তি যেখানে মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক কলিন পুটজেল-কাভানাফ এই আদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, সদস্যপদ বা সংশ্লিষ্টতা প্রমাণের বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং এর প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে তা স্পষ্ট নয়।

দ্বিতীয় আদেশের লক্ষ্য হলো বার্থ ট্যুরিজম বন্ধ করা। এর মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে এই সংক্রান্ত নিয়মকানুন আরও কঠোর ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও আইন

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে ‘জাস সোলি’ বা ‘মাটির অধিকার’ নীতি অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদানের প্রথা চলে আসছে। মার্কিন গৃহযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া দাসদের নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সবাই মার্কিন নাগরিকত্ব পান।

বার্থ ট্যুরিজমের পরিসংখ্যান

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, বার্থ ট্যুরিজমের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ শিশু জন্ম নিয়েছে। তবে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশি নারীদের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৫০০-এর কিছুটা বেশি। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের মতে, এই সংখ্যাটি ২০ হাজার থেকে ২৬ হাজার হতে পারে, যা মোট বার্ষিক জন্মের প্রায় ০.৫ থেকে ০.৭ শতাংশ।

সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান

গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ চ্যালেঞ্জ করেছিল। সলিসিটর জেনারেল ডি জন সাউয়ার যুক্তি দিয়েছিলেন যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়মটি বার্থ ট্যুরিজম শিল্পকে উৎসাহিত করছে। তবে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছিল, সংবিধান একই থাকছে যদিও বিশ্ব পাল্টাচ্ছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *