যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত জেসন আরডে পদত্যাগ করেছেন। নিজের একাডেমিক যোগ্যতা ও পেশাগত ইতিহাস নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণার পরপরই তিনি ৫ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান। এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আরডে ২০২৩ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
পদত্যাগের কারণ ও প্রেক্ষাপট
জেসন আরডের বিরুদ্ধে তার পিএইচডি গবেষণাপত্র এবং অন্যান্য একাডেমিক কাজে প্লেজারিজম বা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল। গুড ল প্রজেক্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরডে জানান, গত কয়েক মাস ধরে চলা অবিরাম সমালোচনা, জল্পনা ও অভিযোগ তার এবং তার পরিবারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি তার জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠায় তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরডের একাডেমিক যোগ্যতা এবং সম্মানসূচক নিয়োগের বিষয়ে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার পর তারা একটি নতুন তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে। এটি বর্তমানে চলমান একাডেমিক অসদাচরণ সংক্রান্ত তদন্তের চেয়ে আলাদা। এছাড়াও, যিশু কলেজ কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।
পূর্বের অভিযোগ ও আত্মপক্ষ সমর্থন
এর আগে ২০১৫ সালে লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয় আরডের পিএইচডি থিসিসে প্লেজারিজমের অভিযোগ তদন্ত করেছিল। তবে সেই তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি; বিশ্ববিদ্যালয় সেটিকে একটি ‘ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। আরডে বরাবরই কোনো অন্যায় করার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত এই প্রচারণা জাতিগত বিদ্বেষপূর্ণ। তবে তিনি একাডেমিক ক্ষেত্রে কিছু ভুলের কথা স্বীকার করেছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পদত্যাগের বিবৃতিতে আরডে এটিকে একটি সাময়িক বিরতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য তিনি কিছু সময় নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পদত্যাগের ফলে তার আসন্ন স্মৃতিকথা ‘গ্রেট অ্যান্ড আনফরচুনেট থিংস’-এর প্রকাশনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।










