ইরানের তেহরানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন রুট নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ে চুক্তি আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় এই প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় এই চুক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, নতুন রুটটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে না। তার মতে, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধ ও বিভিন্ন আগ্রাসী কর্মকাণ্ডই মূলত নিরাপত্তার প্রধান হুমকি।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই নতুন রুটটি সাময়িক সময়ের জন্য কার্যকর হবে এবং দুই থেকে চার মাস চালু থাকতে পারে। এদিকে, এই রুট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রণালীটি দ্রুত খুলে দেওয়া না হলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হবে।
জাহাজ চলাচলের ফি নির্ধারণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইরান জাহাজপ্রতি কার্গো মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি দাবি করছে। ওমান ৩ শতাংশ ফি প্রস্তাব করলেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ফি প্রদানের বিপক্ষে। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই অঞ্চলে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ফেব্রুয়ারিতে নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্বে আসেন। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও যুদ্ধের পর থেকে তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা খুবই কঠিন হলেও তার নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।










