ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ৪৪ জন আহত হয়েছেন এবং আবাসিক ভবন, রেলস্টেশন ও গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলেনস্কির মতে, মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সময়মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইন্টারসেপ্টর) পাওয়া গেলে এই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো।
হামলার বিবরণ
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাজধানী কিয়েভ লক্ষ্য করে ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া ১১৫টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এই হামলায় অন্তত ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে কিয়েভ শহরে একজন এবং বৃহত্তর কিয়েভ অঞ্চলে ১৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে জরুরি সেবা সংস্থা।
ঘটনাস্থলে আগুন
হামলার পর কিয়েভ অঞ্চলের পাঁচটি পৃথক স্থানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
রাশিয়ার অবস্থান
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইউক্রেনের লজিস্টিক হাব এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্রগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার দাবি, এসব কেন্দ্রে ড্রোন উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জাম মজুদ করা হতো। এছাড়া ওদেসা বন্দরের কাছে অস্ত্র বহনকারী তিনটি কার্গো জাহাজেও হামলার কথা স্বীকার করেছে মস্কো।
পাল্টাপাল্টি হামলা
রাশিয়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কিয়েভে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে। এর বিপরীতে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার তুলা অঞ্চলে একটি ড্রোন হামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর দিমিত্রি মিল্যায়েভ। এর আগে মস্কো অঞ্চল এবং ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি সৈকতে ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। উভয় পক্ষই বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।










