Home / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২৫টি অঙ্গরাজ্য একযোগে মামলা দায়ের করেছে। বলপূর্বক শ্রম বা ফোর্সড লেবার মোকাবিলার অজুহাতে বিশ্বের ডজনখানেক দেশের পণ্য আমদানির ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডেমোক্রেটিক শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী, ভিত্তিহীন এবং আইনবিরোধী।

শুল্ক আরোপের কারণ
গত জুলাই মাসে কার্যকর হওয়া এই শুল্ক ব্যবস্থা ১৯৭৪ সালের ইউএস ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ নম্বর ধারার অধীনে আরোপ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাইয়ের দাবি, মার্কিন ব্যবসার সুরক্ষায় আইনগত ক্ষমতার প্রয়োগ করছে প্রশাসন। যেসব দেশ বলপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন বন্ধে ব্যর্থ হচ্ছে, তাদের ওপর এই শুল্ক চাপানো যুক্তিসঙ্গত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অফ দ্য ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক মার্কিন আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।

মামলার যুক্তি
আইনি নথিতে মামলাকারীরা জানিয়েছেন, বলপূর্বক শ্রমের দোহাই দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বেআইনি শুল্ক কাঠামো বজায় রাখতে পারে না। তাদের অভিযোগ, মাত্র দুই মাসের তদন্তে ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে করা। সাধারণত একটি দেশের বিষয়ে এমন তদন্তে অনেক বেশি সময় প্রয়োজন। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল বলেছেন, এই অবৈধ শুল্ক সাধারণ পরিশ্রমী পরিবারের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা মাত্র। ওরেগনের অ্যাটর্নি জেনারেল ড্যান রেফিল্ড মন্তব্য করেছেন, এই শুল্কের দায় সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে, বিদেশি সরকারগুলোকে নয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই শুল্কের ফলে ব্রাজিল ও জাপানসহ বেশ কিছু দেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। চীন এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কারসাজি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর আগে গত বছর ট্রাম্পের আরোপিত অনেক শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছিল। সেই সময়ে শুল্কের অর্থ কোম্পানিগুলোকে ফেরত দিতে হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমান শুল্কের বিরুদ্ধে এই মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *