ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডের গাজা সিটি, খান ইউনিস এবং দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। হামাস কর্তৃক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার কয়েক দিন পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। গাজার সিভিল ডিফেন্স অথরিটি এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হামলার প্রেক্ষাপট
গত অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ১১ শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই হামলাটি টানা দ্বিতীয় রাতের মতো চালানো হলো। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক স্থাপনা এবং এই অভিযানে দুই হামাস সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, গাজায় হামলা বন্ধের কোনো চুক্তিতে তারা পৌঁছাননি। তিনি বরং পুরো গাজার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তার গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’ গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। ট্রাম্প একে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে দাবি করলেও ইসরায়েল এই বিষয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এই খসড়া প্রস্তাবকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
চুক্তির শর্তাবলি
মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া এই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজা পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারি অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। তবে এই কমিটি এখন পর্যন্ত গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। এর মধ্যেই গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে গত নভেম্বরের হিসাব অনুযায়ী অন্তত ১৫০০টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।










