মরক্কোর রাবাতে দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ একটি চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, মরক্কোর একটি প্রধান মহাসড়কের নামকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে করা হয়েছে। রাজা তার চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে এই নামকরণের বিষয়টি জানিয়েছেন, যা পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বকে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক স্বীকৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মহাসড়কটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পশ্চিম সাহারার বিতর্কিত অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই সম্মাননার জন্য মরক্কোর রাজাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। তবে তখন মরক্কোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। অবশেষে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রাজার সেই চিঠিটি প্রকাশ করার পর বিষয়টি নিশ্চিত হলো।
পটভূমি
এক হাজার ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি পূর্বে তিজনিৎ-দাখলা হাইওয়ে নামে পরিচিত ছিল। এটি মরক্কোর উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে সংযুক্তকারী একটি কৌশলগত পথ। ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম সাহারার ওপর মরক্কোর সার্বভৌমত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়। সেই একই সময়ে মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
পশ্চিম সাহারা অঞ্চলটি গত পাঁচ দশক ধরে এক দীর্ঘ সংঘাতের সাক্ষী। জাতিসংঘ অঞ্চলটিকে স্বায়ত্তশাসিত নয় এমন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য গণভোটের আহ্বান জানিয়ে আসছে। যদিও মরক্কো অঞ্চলটিকে তাদের ‘দক্ষিণ প্রদেশ’ হিসেবে দাবি করে, অন্যদিকে পলিসারিও ফ্রন্ট নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছে।
রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিম সাহারার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি মরক্কোর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই মহাসড়কটিকে ‘মহান’ হিসেবে অভিহিত করে ভবিষ্যতে এটি পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই রাস্তাটি পর্যটকদের আকর্ষণে মরক্কোর পরিকল্পনার একটি অংশ বলেও মনে করা হচ্ছে।










