ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার একটি প্রস্তাবকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন। গত বুধবার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি কানাডার সঙ্গে ইইউ-এর সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপটি প্রধানত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুই পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও নিবিড় করবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত সপ্তাহে ইইউর সাথে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বর্তমানে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যে টানাপোড়েন এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইইউর এই আগ্রহকে কৌশলগত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ভন ডের লেয়েন তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই প্রস্তাব কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং পারস্পরিক শক্তি ও সহযোগিতার জায়গা থেকে করা হয়েছে।
বর্তমানে ইইউতে ‘সহযোগী সদস্য’ পদমর্যাদা বলে কিছু নেই। তাই এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ হতে পারে। এ ছাড়া অনেক ইইউ সদস্য দেশ এখনো কানাডার সঙ্গে দীর্ঘ এক দশকের পুরোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুসমর্থন করেনি, যার ফলে নতুন কোনো সদস্যপদ তৈরির বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
ভন ডের লেয়েন কানাডাকে ইইউর অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে কানাডা ও ইউরোপ একইভাবে চিন্তা করে।
ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন
বক্তব্যে ভন ডের লেয়েন একটি নতুন ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। এতে যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, নরওয়ে ও কানাডাকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার হুমকি ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় এই পরিষদকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন।










