দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের পূর্ব অংশে গত শনিবার নিখোঁজ দৌড়বিদ এলিজাবেথ মোসেলাকগোমোর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার তার স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করেন। গত সপ্তাহে নিয়মিত দৌড়ানোর সময় তিনি নিখোঁজ হন এবং তাকে খুঁজে পেতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়। কেম্পটন পার্ক এলাকায় একই ধরনের অবস্থায় পাওয়া এটি পঞ্চম মরদেহ, যার ফলে জননিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং সেগুলো আংশিক বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেছে। যদিও পুলিশ এখনো এই মৃত্যুগুলোর সঙ্গে কোনো সিরিয়াল কিলারের যোগসূত্রের কথা নিশ্চিত করেনি, তবে ঘটনাগুলোর মধ্যে উদ্বেগজনক মিল থাকায় তারা জনসতর্কতা জারি করেছে। কেম্পটন পার্ক এলাকায় নারীদের একা হাঁটা বা দৌড়ানো থেকে বিরত থাকতে এবং জনশূন্য এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নারীদের হত্যার হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। মোসেলাকগোমোর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নারীর নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রানার্স ক্লাবের সদস্যরা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পরিস্থিতির জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবকে দায়ী করছেন।










