Home / আন্তর্জাতিক / সিরিয়ায় এসডিএফ বিলুপ্ত: কুর্দিদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়

সিরিয়ায় এসডিএফ বিলুপ্ত: কুর্দিদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়

সিরিয়ার দামেস্কে সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সরকারি বাহিনীর সাথে একীভূত হওয়ায় দেশটিতে কুর্দিদের ভবিষ্যৎ ও তাদের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার কুর্দি ভাষা ও রাজনৈতিক অধিকারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও, অস্ত্র ত্যাগ করার সিদ্ধান্তের ফলে এই অধিকারগুলো কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষক ও কুর্দি রাজনীতিকরা।

এসডিএফ নেতা মাজলুম আবদি দামেস্কে রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুদ্ধের ময়দান থেকে শান্তি এবং নির্মাণের যুগে প্রবেশের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তবে সমালোচকদের মতে, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফল। এর আগে আইএস দমনে গঠিত এই বাহিনী সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছিল।

কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পিস পার্টির নেতা তালাল মোহাম্মদের মতে, এটি কুর্দিদের জন্য একটি নতুন সুযোগ। তিনি মনে করেন, এখন কুর্দিদের উচিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন সংবিধানে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা। তবে একই সাথে তিনি তুরস্কের প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আঙ্কারা দীর্ঘদিন ধরে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করে আসছে।

ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির (পিওয়াইডি) কো-চেয়ার পারউইন ইউসেফ জানান, তাদের লড়াই শেষ হয়নি। রাজনৈতিক সমঝোতা ও চুক্তির মাধ্যমে তারা অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, কুর্দিদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই।

কুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সর্বস্ত নবী মনে করেন, এসডিএফ-এর এই সিদ্ধান্ত কুর্দি আকাঙ্ক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপটি সিরিয়া বা কুর্দিদের নিজস্ব ইচ্ছার প্রতিফলন নয়, বরং তুরস্কের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থেরই প্রতিফলন। তুরস্কের কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওচালানের ওপর প্রভাব খাটিয়েই এই সমঝোতা হয়েছে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

এদিকে ইরাক ও তুরস্কসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর কুর্দিদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে কুর্দিদের সামনে কার্যত অন্য কোনো উপায় ছিল না। তবে দীর্ঘদিনের স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন এবং অধিকারের সুরক্ষা নিয়ে সাধারণ কুর্দিদের মধ্যে অবিশ্বাস ও সংশয় কাটছে না।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *