যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নাম ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন সমস্যা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউরোপীয় কোনো নেতার সঙ্গে বার্নামের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে।
বৈঠকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সমস্যা। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখবে সরকার। এই সংকট সমাধানে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফরাসি উপকূলে ৪৫ জন কর্মকর্তার একটি বিশেষ দল মোতায়েন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নাম উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলতি গ্রীষ্মে অবৈধভাবে আসা অভিবাসীর সংখ্যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বাণিজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক
ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙা করতে ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বার্নাম। তবে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার বা কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। আলোচনার সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘মেড ইন ইউরোপ’ এজেন্ডা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, এই নীতি যুক্তরাজ্যের ইস্পাত শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
প্রতিরক্ষা ও ইউক্রেন ইস্যু
প্রতিরক্ষা বিষয়ে আলোচনার সময় দুই নেতা ইউক্রেনে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্ক্যাল্প’ তৈরির স্থানীয় অ্যাসেম্বলি লাইন স্থাপনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে কিয়েভে অনুষ্ঠিত জোটবদ্ধ দেশগুলোর বৈঠকের সাফল্যের বিষয়টিও তারা পর্যালোচনা করেন। বৈঠকের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং তিনি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।










