স্পেনের সেউতায় অভিবাসীদের ঘিরে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সংকটের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেউতার মেয়র হুয়ান জেসুস ভিভাস বলেছেন, শহরটি বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই অভিবাসন সংকট স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সরকারি পরিষেবার ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে।
গত জুলাই মাসের শেষে মরক্কো সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৭২ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেন। মেয়রের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাপক অনুপ্রবেশের সময় অন্তত ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও অধিকাংশ অভিবাসী দ্রুত মরক্কোতে ফিরে গেছেন, তবে এখনও হাজারো অভিবাসী, যাদের বড় অংশই শিশু, সমুদ্র সৈকত বা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পোলিন সৈকতে অভিবাসীদের ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং রেড ক্রস কর্মীদের ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয় স্থানীয়রা। এছাড়া ১২ জন অভিবাসীকে সামরিক গাড়িতে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় অভিবাসীদের ধাওয়া করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দোষারোপের রাজনীতি অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দল পিপি এবং উগ্র ডানপন্থী দল ভক্স সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করছে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাসকা অভিযোগ করেছেন যে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সামাজিক বিভাজন উসকে দিচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের হাত থেকে সংকট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর আগে সরকারি নির্দেশে অভিবাসীদের সরকারি ভবনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা আশঙ্কা করছেন, অভিবাসীদের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়ে আসা হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।
এই সংকটকে কেন্দ্র করে সেউতা ও মেলিলার সার্বভৌমত্ব নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। মরক্কো দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলগুলোর ওপর নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছে, যা স্পেন সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।










