গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইতুরি প্রদেশে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যুর হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব শুরুর তিন মাসের মধ্যে ৪,৯০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ২,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই সংখ্যা ২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা মহামারিতে মৃতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
প্রাদুর্ভাবের উৎস ও ভয়াবহতা
ইতুরি প্রদেশের মংবওয়ালু জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রিচার্ড লোকুদু জানান, সরকারিভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার আগেই হাসপাতালে ইবোলার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। এপ্রিলে এক রোগীর চিকিৎসার পর হাসপাতালের অ্যানেস্থেটিস্টসহ তিন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগেই ভাইরাসটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই প্রাদুর্ভাবটি মূলত ‘বান্দিবুগিও’ ভাইরাসজনিত, যার জন্য বর্তমানে কোনো স্বীকৃত টিকা বা অনুমোদিত ওষুধ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, সশস্ত্র সংঘাত, মানুষের যাতায়াত এবং সঠিক সময়ে রোগী শনাক্ত করতে না পারার কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘাত ও চ্যালেঞ্জ
ইতুরি প্রদেশটি দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাতে জর্জরিত। খনিজ সমৃদ্ধ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর লড়াইয়ের ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। প্রদেশটি বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ডা. জাস্টাস নিসিও জানান, যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। ডব্লিউএইচওর ইনসিডেন্ট ম্যানেজার ডা. থিয়েরনো বালদে বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াত এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সংক্রমণের গতি রোধ করা যাচ্ছে না।
বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ইতুবি প্রদেশে ১২টি গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল চিকিৎসা নয়, বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতা না ফিরলে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।










