ইসলামের দৃষ্টিতে মানবজীবন একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের পরীক্ষা, যার ফলাফল হাশরের ময়দানে নির্ধারিত হবে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয়ে জবাবদিহিতার আগে আদম সন্তানের পা আল্লাহর দরবার থেকে নড়বে না। প্রতিটি মানুষকে তার বয়স, যৌবন, সম্পদের উৎস, সম্পদের ব্যয় এবং অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল সম্পর্কে হিসাব দিতে হবে।
সময়ের মূল্যায়ন
জীবন হলো সময়ের সমষ্টি। প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া নেয়ামত। এই সময় কি আল্লাহর আনুগত্য ও সৎকাজে ব্যয় হয়েছে নাকি অনর্থক কাজে নষ্ট হয়েছে, তা প্রথম প্রশ্নের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
যৌবনের সদ্ব্যবহার
যৌবন জীবনের বসন্তকাল, যেখানে মানুষের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকে। যৌবনের শক্তি কুপ্রবৃত্তি ও পাপাচারে ব্যয় হয়েছে নাকি আল্লাহর ইবাদতে, তার হিসাব আলাদাভাবে নেওয়া হবে।
সম্পদ উপার্জনের পথ
হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহ করা ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান। অর্থ উপার্জনের উৎস বৈধ ছিল নাকি সুদ, ঘুষ বা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল, তা হাশরের ময়দানে প্রতিটি মুদ্রার হিসাবের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে হবে।
সম্পদ ব্যয়ের খাত
সম্পদ উপার্জন হালাল হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। উপার্জিত অর্থ জাকাত, সদকা ও জনকল্যাণে ব্যয় হয়েছে, নাকি অপচয়, অহংকার বা হারাম কাজে নষ্ট হয়েছে, তার কৈফিয়ত দিতে হবে।
জ্ঞানের প্রয়োগ
অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা মুমিনের দায়িত্ব। জ্ঞান থাকার পরও যারা তা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেনি, তাদের সেই জ্ঞান কিয়ামতের দিন তাদের বিরুদ্ধেই দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হবে।










