নেপালের কাঠমান্ডুতে গত বছর দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মের দাবির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ এক বছর আগে নেপালের বিভিন্ন শহরে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করেছিল। এই আন্দোলনের ফলে দেশটিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হয়।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন শহরে তরুণরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসেন। সরকারের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সন্তানদের বিলাসিতা এবং সরকারি দুর্নীতি ছিল তাদের ক্ষোভের মূল কারণ। সে সময় সরকার বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়ায় উত্তজনা আরও চরমে পৌঁছায়। বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি করা হয় এবং পুলিশের গুলিতে প্রায় ৭৬ জন প্রাণ হারান। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি পদত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে মার্চ মাসে ৩২ বছর বয়সী র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দাবি ও বাস্তবতা
তরুণদের মূল দাবির মধ্যে ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অবসান, সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচনের আয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসলেও বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতির মূল উৎপাটন এখনো সম্ভব হয়নি। কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক যোগ রাজ লামিছানে জানান, নির্বাচন হয়েছে এবং নতুন মুখ এসেছে ঠিকই, কিন্তু মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাব রয়ে গেছে। এমনকি আন্দোলনে সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চললেও এখনো আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করা হয়নি।
চলমান বিভাজন
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের মধ্যে এখন বিভাজন দেখা দিয়েছে। একটি অংশ সরকারি প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা করছে, আবার অনেকে বাইরে থেকে সরকারের সমালোচনায় সোচ্চার। সমাজকর্মী আয়ুশ বাসিয়াল জানিয়েছেন, এখনও অনেক আন্দোলনকারী কারাগারে বন্দি রয়েছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে নেপাল তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশটিতে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সরকার জনমতের চাপে থাকলেও কাঠামোগত সংস্কারে ধীরগতি তাদের জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা এবং সরকারের কাজের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা দূর করা না গেলে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় পর্যায়ের অসন্তোষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








