যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে গেছেন টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচ। শারীরিক অসুস্থতা ও তীব্র যন্ত্রণার কারণে আর্জেন্টিনার আনসিড খেলোয়াড় মারিয়ানো নাভোনির কাছে পাঁচ সেটের ম্যারাথন লড়াইয়ে পরাজিত হন তিনি। ম্যাচ শেষে জোকোভিচ নিজেই নিজের শারীরিক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম হতাশাজনক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পঁচিশতম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা জোকোভিচের জন্য এই পরাজয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুই দশকের মধ্যে এটিই তার সবচেয়ে দ্রুততম বিদায়।
ম্যাচের বিবরণ
প্রায় চার ঘণ্টা ৩৬ মিনিট স্থায়ী এই ম্যাচে জোকোভিচ ৭-৬ (৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে পরাজিত হন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম ওপেনিং গ্র্যান্ড স্লাম ম্যাচ। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর জোকোভিচ কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড থেকে এর আগে কখনো বিদায় নেননি। ম্যাচের এক পর্যায়ে তাকে মাঠে বমি করতে দেখা যায় এবং পায়ের পেশিতে টান অনুভব করেন তিনি। ম্যারাথনের চতুর্থ ও পঞ্চম সেটের বিরতিতে তাকে চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হয় এবং পিঠে মালিশ করতে দেখা যায়।
জোকোভিচের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, আমি কোর্টে কোনো আনন্দ পাইনি এবং এটি আমার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল। তিনি আরও জানান, এই বছর প্রতিটি ম্যাচেই তিনি বমি ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তার কথায়, শরীর ভেঙে পড়ছে, পেশিতে টান এবং ব্যথা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পিঠ ও কাঁধের ব্যথা অসহনীয় হয়ে ওঠায় তিনি আর লড়াই চালিয়ে যেতে পারেননি।
নাভোনির অনুভূতি
২৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় মারিয়ানো নাভোনি ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় জয়টি পেয়ে আবেগাপ্লুত। তিনি বলেন, টেনিসের সর্বকালের সেরার বিপক্ষে খেলা এবং জয় পাওয়া আমার জন্য স্বপ্নের মতো। এই বড় মঞ্চে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে জয় পাওয়াটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়
ইউএস ওপেনে নিজের ২১তম বার্ষিকীতে এই পরাজয়ের পর জোকোভিচের ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটিই কি তার শেষ কোনো গ্র্যান্ড স্লাম ম্যাচ ছিল কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর জোকোভিচকে এখন তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।










