নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাওয়া ও হিমবাহ ধসের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস থেকে বন্যার আশঙ্কা করা হলেও, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে নিশ্চিত করেছে যে এটি একটি হিমবাহ ধসের ঘটনা।
ঘটনার কারণ ও প্রভাব
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ল্যাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে পড়ার ঘটনাটি ৫.২ মাত্রার কম্পন তৈরি করেছিল। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ড. সাইমন কুক জানান, হিমবাহটি উত্তর-পশ্চিম দিকে ধসে পড়ে এবং নিচের দিকে নেমে আসে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি) বলছে, বরফ ও পাথরের স্তূপ লেন্ডে খোলা নদীতে পড়ার ফলে পানির স্তর আধা ঘণ্টার মধ্যে সাত থেকে নয় মিটার বেড়ে যায়।
কেন এই বিপর্যয়
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইক সার্লের মতে, হিমালয়ের এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে পাহাড়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে হিমবাহগুলো খাড়া হয়ে যাচ্ছে এবং ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সাধারণত ছোট ছোট টুকরো ধসে পড়লেও এবার পুরো হিমবাহটি একসঙ্গে ধসে পড়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহগুলো ২০০০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হারে গলছে। মাটি ও বরফের স্তর গরম হওয়ায় পাহাড়ের স্থায়িত্ব কমছে এবং ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের ঘটনা নিয়মিত হয়ে উঠছে। ভারতের চামোলি ও নেপালের আগের বন্যার ঘটনাগুলোও এই অঞ্চলের ক্রমেই বাড়তে থাকা সংকটের ইঙ্গিত দেয় বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন।










