ইরানের তেহরানে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্থনৈতিক যুদ্ধে যারা অংশ নেবে, তাদের শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চাপে ফেলতে ইতিহাসের অন্যতম কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া জানালো তেহরান। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মোহসেন রেজায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবিকে জানান, ইরান বিশ্বের সব দেশ, বিশেষ করে তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে শামিল না হয়। তিনি বলেন, ইরান প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করবে এবং অন্য দেশগুলোকে ওয়াশিংটন থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেবে। তবে যদি তাতে কাজ না হয়, তবে ইরান ওইসব দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আঘাত হানবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চীনসহ যারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের পরিণাম ভোগ করতে হবে। আগামী সোমবার এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নতুন এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, অন্য স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
এদিকে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে মিশর। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। উভয় পক্ষই সংঘাত কমিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই নৌপথ বন্ধ থাকবে।









