Home / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাজ্যে কারাবন্দি সংকট ও পুলিশ হত্যাকারীদের মুক্তির গুঞ্জনে তোলপাড়

যুক্তরাজ্যে কারাবন্দি সংকট ও পুলিশ হত্যাকারীদের মুক্তির গুঞ্জনে তোলপাড়

যুক্তরাজ্যের লন্ডনসহ ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কারাগারের ধারণক্ষমতা সংকট নিরসনে গৃহীত এক বিশেষ মুক্তি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, কারাগারের চরম overcrowding বা জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে সরকার এই নতুন মুক্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে ২০১৯ সালে দায়িত্ব পালনকালে নিহত পুলিশ কনস্টেবল অ্যান্ড্রু হার্পারের হত্যাকারীরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে—এমন তথ্য জানাজানি হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

প্রকল্পের পটভূমি
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমলে পাস হওয়া ‘সেন্টেন্সিং অ্যাক্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারে থাকা নির্দিষ্ট মেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের শাস্তির মেয়াদের এক-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হলেই তাদের মুক্তির সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল কারাগারের ওপর চাপ কমানো। এই প্রকল্প আগামী অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন এই বিতর্ক
অ্যান্ড্রু হার্পারের হত্যাকারীদের শাস্তির মেয়াদের অর্ধেক সময় পার হওয়ার আগেই মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তার পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অ্যান্ড্রু হার্পারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত আলবার্ট বাউয়ার্স এবং জেসি কোলের সাজা কমানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না নিহতের স্বজনরা। বিষয়টি নিয়ে প্রায় ৯ লাখ মানুষ পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন এবং ৫০ জন পুলিশ প্রধান প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামকে চিঠি দিয়ে হত্যাকারীদের মুক্তির পথ রুদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের প্রতিক্রিয়া
তীব্র জনরোষের মুখে প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ধর্ষণ এবং শিশু যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধীদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এতে প্রকল্পের আওতায় আসা কয়েদির সংখ্যা ৬ হাজার থেকে কমে ৫ হাজারে নেমে আসবে। এছাড়া তিনি এই প্রকল্পের তারিখ এক মাস পিছিয়ে অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন। হার্পারের হত্যাকারীদের মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের আবেগ বোঝেন এবং গুরুতর অপরাধীদের মুক্তি ঠেকাতে আইনগত সব ধরনের সুযোগ অনুসন্ধান করছেন।

কারাগার সংকট কেন
ব্রিটেনের কারাগারগুলো বর্তমানে ধারণক্ষমতার ৯৭ শতাংশ পূর্ণ। ইনস্টিটিউট ফর গভর্মেন্ট-এর তথ্যমতে, গত ৩০ বছরে অপরাধের হার কমলেও কারাগারের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। সাজা প্রদানের দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা এবং নতুন কারাগার নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। কারাগার সংস্কার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর মতে, বন্দি সংখ্যা কমানো এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জোর না দিলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *