সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে, যা অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
চুক্তির গুরুত্ব ও প্রভাব
অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি কয়েক দশকের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বর্তমানে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। বিশ্লেষক সিনা তুসি মনে করেন, এটি মার্কিন মদদপুষ্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর স্বাভাবিকীকরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
তবে অন্য একটি পক্ষের মতে, এই চুক্তি মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী নয়। মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরে মিত্র দেশগুলোর ওপর দায়ভার বণ্টনের (burden-sharing) কথা বলে আসছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ফেলো আসলু আইদিনতাসবাসের মতে, এটি মার্কিন কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে, কারণ মিত্র দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেরাই নেওয়ার চেষ্টা করছে।
চুক্তির সীমাবদ্ধতা
সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান—তিনটি দেশই আলাদাভাবে জানিয়েছে যে, এই চুক্তি অন্য কোনো জোটের বিকল্প নয়। সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে যে, তারা কোনো সামরিক ব্লক বা ধর্মীয় জোট গঠন করছে না। একইভাবে তুরস্ক জানিয়েছে, এটি ন্যাটোর সদস্যপদকে প্রভাবিত করবে না।
তবে এই চুক্তি আব্রাহাম অ্যাকর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফিলিস্তিন ইস্যুর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না, এই চুক্তির মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হলো। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক পুরনো নিরাপত্তা কাঠামোর গ্রহণযোগ্যতা কমে আসছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।










