Home / Uncategorized / নীলফামারীর সৈয়দপুরে শতবর্ষী ‘চীনা মসজিদ’—চিনামাটির অলংকারে পর্যটকদের ভিড়

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শতবর্ষী ‘চীনা মসজিদ’—চিনামাটির অলংকারে পর্যটকদের ভিড়

বাংলাদেশের নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ইসলামবাগে অবস্থিত দেড় শতাধিক পুরনো ‘চীনা মসজিদ’ তার দেয়ালজুড়ে চিনামাটির নকশা ও নান্দনিক অলংকারের কারণে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে আসছে, বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা ও প্রচলিত তথ্য। এটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে।

স্থাপনার ইতিহাস অনুসারে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৮৬৩ সালে স্থানীয় মুসলিম সমাজের উদ্যোগে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্প্রসারণ, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। নির্মাণ ও সংস্কারের নির্দিষ্ট Chronology নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে পার্থক্য থাকলেও মসজিদটির বয়স প্রায় দেড় শতাব্দী ছাড়িয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে সৈয়দপুরের সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী হাজী বখতিয়ার মাহমুদের সহযোগিতায় মসজিদটির বাহ্যিক অলংকরণ আরও বিস্তৃত করা হয়। দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা চিনামাটির থালা, কাপ, প্লেট, টাইলস ও বিভিন্ন অলংকারসামগ্রী ব্যবহার করে দেয়াল, গম্বুজ ও মিনারে নান্দনিক ছোঁয়া যোগ করা হয়। এ কারণেই স্থানীয়ভাবে এটি ‘চিনি মসজিদ’ বা ‘চীনা মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

স্থাপত্যগত দিক থেকে মসজিদটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো দেয়াল জুড়ে চিনামাটির টুকরো দিয়ে তৈরি সূক্ষ্ম কারুকাজ, রঙিন কাচের ব্যবহার, মার্বেলের মেঝে, সুউচ্চ মিনার ও দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ। প্রচলিত স্থাপত্যধারার বাইরে থাকা এই নকশা এটিকে দেশের অন্যান্য মসজিদ থেকে আলাদা করেছে এবং দর্শনার্থীদের সহজে মুগ্ধ করে।

বর্তমানে বিশেষত ঈদ, জুমা ও সরকারি ছুটির দিনে মসজিদে দর্শনার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। ঢাকার মতো বড় শহর থেকে ট্রেন, বাস কিংবা বিমানযোগে সৈয়দপুরে পৌঁছে রিকশা বা অটোরিকশায় সহজে মসজিদে যাওয়া যায়, ফলে এটি একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পর্যটন ও সাংস্কৃতিক মূল্যমানের কারণে চীনা মসজিদকে নীরিক্ষণ করে সংস্কারে সচেতন থাকা ও দর্শনীয়তার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রাসঙ্গিক। ইতিহাস, ধর্ম ও স্থাপত্যের সংমিশ্রণে তৈরি এই মসজিদ নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

Tagged:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *